ক্বারী উবায়দুল্লাহ: শৈশবের মুগ্ধতা

যতদূর মনে পড়ে, ৯৬ সালের দিকে আব্বা একটি সেকেন্ড হ্যান্ড রেডিও কাম ক্যাসেট প্লেয়ার কিনে আনেন। জাপানি প্যানাসনিক ব্র্যান্ডের এই যন্ত্রটি আব্বার খুবই প্রিয় ছিল। বাংলাদেশ বেতারের সকাল সাতটা আর রাত সাড়ে আটটার সংবাদ আব্বা নিয়মিতই শুনতেন। যদিও আমি তখনো বেশ ছোট, তারপরও ভাইবোনদের মধ্যে আমিই বেশিরভাগ সময় আব্বার সাথে বসে খবর শুনতাম। আব্বা অবশ্য বিবিসি, আরো কি কি শুনতেন। আমার ওসবে আগ্রহ ছিল না।

প্রতি রমজান মাসে বিকেলে বাংলাদেশ বেতারে খতমে কোরআনের প্রোগ্রাম ছিল। এখন হয় কি না জানি না। আমাদের বাড়িতে প্রতিদিন এই প্রোগ্রাম রেডিওতে চলতো। আব্বা যেদিন বাড়িতে থাকতেন, সেদিন আমরা ভাইবোনেরা ইফতারির অন্তত আধঘণ্টা আগে থেকে রেডিওতে তেলাওয়াত শুনতাম। ক্বারী উবায়দুল্লাহ ছিলেন আব্বার খুবই ফেভারিট।

আমার এখনো মনে পড়ে, কী তন্ময় হয়ে আমরা তেলাওয়াত শুনতাম। এক ধরনের মোহবিষ্টতা কাজ করতো। এখনো কানে ভাসে ক্বারী উবায়দুল্লাহর ‘ফাবিআইয়ি আলা ইরাব্বিকুমা তুকাযযিবান’। এই আয়াতটা তিনি নানা ঢংয়ে উপস্থাপন করতেন। হৃদয়ের প্রতিটি তন্ত্রীতে শিহরণ জাগাতো।

শৈশবের সেই স্মৃতি প্রায় ভুলতেই বসেছিলাম। এই খবরটায় হঠাৎ চোখ আটকে গেলো। মানুষটার ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আল্লাহ উনার সকল অসুস্থতা দূর করে দিন। যাবতীয় অভাব থেকে তাকে মুক্ত করুন। আমীন।

ফেসবুক লিংক

আপনার মন্তব্য লিখুন

ইমেইল এড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।