ধর্মবাদী ট্রু সেক্যুলার মুসলমান

(খ্রিষ্ট) ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের মাধ্যমে আধুনিক যুগে ফ্রান্সে সেক্যুলারিজমের যাত্রা শুরু হয়েছিলো। ইন্টারেস্টিংলি বাঙালি মুসলমানরা এই জিনিসটা ভালোই আত্মিকরণ করেছে। বাঙালী মুসলমানদের জীবনযাপনের সাথে ইসলামের সম্পর্ক সাধারণত নেই। ইসলাম বলতে আমাদের বুঝ হলো কিছু রিচুয়াল (যা ধর্মকর্ম বলে পরিচিত) পালন করা। এর বাইরে ব্যক্তিগত জীবনবোধ বা ওয়ার্ল্ডভিউর ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমান ইসলামকে সাধারণত বিবেচনা করে না। এর প্রমাণ আপনি পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্র পাবেন।

এ জন্যই দেখবেন সেজদা দিতে দিতে কপালে দাগ ফেলে দেয়া লোকটাও নিঃসঙ্কচিত্তে ঘুষ খায়। নফল ইবাদতসহ সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মানুষটিও অন্যের অধিকার নষ্ট করতে কুণ্ঠিত হয় না। পরিবার পরিচালনা, প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের হক, আয়-উপার্জনসহ হাজারো বিষয়ে তারা নিজের একান্ত বুঝ মতোই চলে। এসব বিষয়ে ইসলামের যে নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে, সেগুলো তাদের বিবেচনাতেই নাই। তাদের কাছে ইসলাম হলো নিজের তরিকায় দুনিয়ার জীবনটা পার করে পরকালটাও হাতিয়ে নেয়ার এক মোক্ষম হাতিয়ার। অদ্ভূত লাগে!

আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অধিকাংশ মানুষই ধর্মীয় ইবাদতের বাইরে জীবনযাপনের নানা বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা সম্পর্কে জানতেও আগ্রহী নয়। এর কারণ বোধহয়, যৌক্তিক মানুষ হিসেবে জানতে গেলে তো মানার প্রশ্ন চলে আসে। পরিস্থিতির কারণেে এ ধরনের কথাবার্তার পরিবেশে উপস্থিত থাকলে সাধারণত দু ধরনের ঘটনা ঘটে। (১) সহজেই সবকিছুতে সম্মতি দিয়ে বসে। এর সুবিধা হলো, এতে করে এসব ‘বিব্রতকর’ আলোচনা থেকে সহজে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। (২) কিছুক্ষণ চুপচাপ শুনে অন্য প্রসঙ্গে চলে যায়।

এহেন মনমানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে এত এত মুসলমান দিয়ে কী লাভ? যতটুকু বুঝি, ইসলাম তো কোয়ালিটিটিভ ব্যাপার, মুসলমানের সংখ্যাধিক্য ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তথাকথিত ‘বিগ পিকচার’ নিয়ে যেসব ইসলামপন্থী দিনরাত একাকার করে ফেলেন, তাদেরকে মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনের এসব বৈপরীত্ব নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা করতে দেখি না। তারা ঘরে বসে হাতিঘোড়া মারতে ব্যস্ত। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা কয়টা বোমা মারলো, অমুক একাডেমিক কী লিখলো, তমুক মিডিয়াতে ইসলামোফোবিয়া কদ্দুর প্রকাশ পেলো- এইসব ইস্যুগুলো গুরুত্বপূর্ণ বটে। তবে যেই ‘উম্মাহ’ নিয়া এত চিন্তাভাবনা করেন, সেই ‘উম্মাহ’ যাদের নিয়ে গঠিত, তারা মুসলমান হিসেবে কতটুকু কোয়ালিফাই করে, না করলে তাদেরকে সত্যিকারের মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতে করণীয় কী- এইসব কথাবার্তায় দেখেছি কেউ মজা পায় না। এগুলোতে কোনো সেনশেসন নাই। তাদের কাছে এইগুলো নীরস, পানসে ব্যাপার। এটাও এক ধরনের সেক্যুলার ইসলামচর্চা বটে।

ফেসবুক লিংক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *