চিলড্রেন অব হ্যাভেন

চিলড্রেন অব হ্যাভেন

মামাতো-ফুফাতো ভাই। ছোটটা আমার ভাতিজা আবরার। আর বড়টা ভাগিনা সাইফ।

সাইফের স্বভাব হলো সবকিছুতে পণ্ডিতি ফলানো। যে কোনো বিষয়ে একটা বিশেষজ্ঞ মতামত সে দিবেই দিবে। সেটা যত অদ্ভুতই শোনাক, তাতে কিছু আসে-যায় না তার। ছোট-বড় বাকি ভাইবোনদের উপর সবসময় খবরদারি ফলাবে। এজন্য আমি তাকে ডাকি ‘পণ্ডিত সাব’। কিন্তু পোলায় এবার পুঁচকে মামাতো ভাইয়ের কাছে ধরা খেয়ে গেলো।

ঘটনা হলো, বিকেলে তারা মাঠে ঘুরতে বের হয়েছিলো। আবরার তো গ্রামের পোলা। ধানক্ষেতের আঁকাবাঁকা সরু আইল ধরে দৌড়ানো তার জন্য ডালভাত। কিন্তু বিপদ হয়েছে পণ্ডিত সাবের। ছোট ভাই দৌড়াচ্ছে, মানসম্মানের স্বার্থে তাই তাকেও দৌড়াতে হয়। কিন্তু দৌড় দিয়েছে তো ধপাস করে পড়ছে। এরমধ্যে মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মতো হঠাৎ তিড়িংবিড়িং করে সামনে লাফিয়ে পড়লো এক ছাগলছানা। কিন্তু শহুরে পোলা তো, চিনতে ভুল করেছে। ‘ওমা গো! গরুর বাচ্চা’ বলে জুড়ে দিয়েছে চিৎকার-চেঁচামেচি।

এই দেখে আবরার তো হেসেই বাঁচে না। আক্ষরিক অর্থেই গড়াগড়ি খাচ্ছিলো। ছোট ভাইয়ের সামনে এভাবে বড় ভাইয়ের ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে ছাগলছানা ততক্ষণে পগারপার।

ছবি তুলেছে ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী আমার আরেক ভাগ্নি হোমায়রা।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *