দ্য লাইফ অব মোহাম্মদ

জন্মের আগেই বাবা মারা গেছেন। শিশুকালে মারা গেলেন মা। তারপর দাদা। এবার ঠাঁই হলো চাচার ঘরে। সহায়-সম্বলহীন এতিম এক বালক। এই বালকটিই একদিন এমন এক দাবি নিয়ে সমাজে হাজির হলেন, যা বিশ্ব ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলো। আজো যার মতাদর্শ লালন করে বিশ্বের দেড়শ কোটি মানুষ। আপনারা এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে ফেলেছেন আমি মহানবী মোহাম্মদের (সা) কথা বলছি।

২০১১ সালে মহানবীর জীবনীভিত্তিক একটি ডকুমেন্টারি সম্প্রচার করে বিবিসি। দ্য লাইফ অব মোহাম্মদ। তিন পর্বের এই ডকুমেন্টারির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক, টিভি উপস্থাপক, লেখক ও স্কলার জিয়াউদ্দীন সরদার। উপস্থাপনায় ছিলেন আরেক ব্রিটিশ সাংবাদিক রাগেহ ওমর। ফারিস কেরমানী পরিচালিত এই ডকুমেন্টারিতে আমি নতুন এক ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। এর আগে আমার দুটি সীরাত গ্রন্থ পড়া ছিল– সীরাতে ইবনে হিশাম এবং আর রাহীকুল মাখতুম। জনপ্রিয় ও ট্র্যাডিশনাল এই গ্রন্থ দুটিতে আপনি রাসূলের (সা) জীবনের বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন, তবে মুদ্রার অপর পিঠটি জানার সুযোগ খুব একটা নেই। আর এই ডকুমেন্টারিতে ডিটেইল বর্ণনা নেই, তবে পক্ষ-বিপক্ষ উভয় তরফের বর্ণনা আপনি স্ব স্ব পক্ষের এক্সপার্টদের কাছ থেকেই শুনতে পাবেন। মহানবীর (সা) জীবন ও কর্ম নিয়ে যত প্রশ্ন, সন্দেহ, সংশয় ও অভিযোগ রয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই এখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আপনার অবচেতন বা সচেতন মনেও হয়তো এই প্রশ্নগুলো ছিলো। নানান কারণে হয়তো প্রশ্নগুলো তোলার সাহস পাননি। খোলা মনে দেখলে খুব সম্ভবত এখান থেকে সেই প্রশ্নগুলোর জবাব পাবেন।

আমরা সাধারণত মহানবী (সা) সম্পর্কে ধারণা করি, তিনি হলেন এক অনন্য উচ্চতার ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। এক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের ভাবনা তাঁকে সাধারণ মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। কিন্তু এই ডকুমেন্টারি দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী, মিশুক ও সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন ব্যক্তি। সাম্প্রতিককালে পিউরিটানিক সালাফী ঘরানার লোকেরা ইসলামের যে ধরনের ‘ভীতিকর’ চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরে, কিংবা পলিটিক্যাল ইসলামপন্থীরা ইসলামের যে একপেশে অতি রাজনৈতিক চরিত্র হাজির করে; আমার কাছে মনে হয়েছে, স্বয়ং মহানবী এই দুই ধরনের প্রান্তিকতা থেকেই মুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষ ও সমাজের সাথে অনেক বেশি ঘনিষ্ট। অথচ এই দুই শ্রেণীর লোকদেরকে আমরা দেখি, তারা এক প্রকার সমাজবিচ্ছিন্ন।

গত দুই মাস ধরে ডকুমেন্টারিটি অনুবাদের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। অবশেষে আজ একটি পর্ব পাবলিশ করা গেলো। আশা করছি ছোট আকারে প্রতিদিন একটি করে পর্ব পাবলিশ করতে পারবো।

সবাইকে পড়ার আমন্ত্রণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *