নববর্ষ

০১ জানুয়ারি, ২০১৪

“শুরু ও শেষের দ্বিধায় আজো আপ্লুত। যা নতুন তা প্রতিদিন-ই নতুন নতুন রূপ ধারণ করে, কারো দেখা বা উদযাপনের অপেক্ষা করে না। ….সামনে আর পিছনে অথবা যেদিকে তাকাই- আছি। বাস্তবে অথবা কারো কল্পনায়। যদি না-ই থাকি কোথাও নাই। লোভ জাগে নতুন আর পুরাতনের ধূসর সীমানায় দাড়াতে। কিন্তু এমন সীমানা খুঁজে পাই না।”

সকাল সকাল ফেসবুকে ওয়াহিদ সুজন ভাইয়ের স্ট্যাটাসটা পড়ে কেন যেন মনটা ভালো হয়ে গেলো। কেমন একটা অতৃপ্তি ও হাহাকার- তারপরও ভালো লাগা। পড়ার সময় ভাবছিলাম, আরেহ! এতো আমারই কথা, এভাবে ভাবতে ভাবতেই তো গতকাল রাতে ঘুমাতে গিয়েছি! আমার এলোমেলো, বিক্ষিপ্ত ভাবনাকেই যেন ভাষা দিয়েছেন সুজন ভাই।

০২ জানুয়ারি, ২০১৪
পায়ে হেঁটে জিরো পয়েন্টের দিকে যাচ্ছি। ৪/৫ জন কিশোর হইহল্লা করতে করতে স্কুল থেকে ফিরছে। হাতে নতুন বই। পরীক্ষা শুরু হলে নতুন বই পাওয়ার এই আনন্দ কতটুকু থাকবে কে জানে? মনে আছে, ছোটবেলায় নতুন বই পাওয়ার পর পাতা উল্টিয়ে ঘ্রাণ শুঁকতে খুব ভাল্লাগতো। তারপর বাংলা বইয়ের সবগুলো কবিতা ও গল্প পড়ে ফেলতাম প্রথম দিনেই। তারপর শীতের সকালে বারান্দায় পাটি বিছিয়ে ভাইবোন সবাই মিলে বই মলাট করার মহা আয়োজন। ব্যস, ওই পর্যন্তই। তারপর বইগুলোকে কখনোই আপন মনে হয়নি।

আর্মড পুলিশ ফোর্সের এক সদস্য ছাত্রদের এই হইহল্লা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিলেন। আমানত হল পার হওয়ার সময় তিনি তাদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, আঙ্কেল, তোমাদের হাতে কোন ক্লাসের বই? দুয়েকজন জবাব দিলো, সেভেনের।

ছেলেগুলো চলে গেলো। আমি পুলিশ সদস্যের মুখের দিকে তাকালাম। তিনি আনমনে আকাশ, গাছপালা দেখছেন। হয়তো কিছুই দেখছেন না। কল্পনার আকাশে উড়াল দিয়েছেন, দেখছেন- তার সন্তানও স্কুল থেকে নতুন বই হাতে নিয়ে বন্ধুদের সাথে হইহল্লা করতে করতে যাচ্ছে। বাড়ি ফিরে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ শুঁকছে। বাংলা বই থেকে পড়ে ফেলছে সব গল্প-কবিতা। মা, ভাইবোন- সবাইকে দেখাচ্ছে নতুন বই।

এই চমৎকার সময়ে তিনি দূরে, বহু দূরে… দাঁড়িয়ে আছেন… হাতে অটোমেটিক রাইফেল!

১টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

ইমেইল এড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।