নারীবাদীদের অসুখ

বর্ণনার নৈপুন্য বা চমৎকারিত্ব মানুষের একটা বিশেষ গুণ। এই ক্ষমতার জোরে মানুষ বড় বড় কীর্তি গড়ে তোলে। স্টোরি টেলিং এতোই পাওয়ারফুল বিষয় যে, একটা কাল্পনিক ঘটনার কাল্পনিক একটা চরিত্রের জন্য আপনি কাঁদেন, হাসেন। চরিত্রের সত্তাটিকে আপনি অনুভব করেন। তাই এই ক্ষমতার অপপ্রয়োগ না করাটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

আনফরচুনেটলি, অনেক নারীবাদীর মধ্যে স্টোরি টেলিংয়ের এই অদ্ভুত ক্ষমতাটা রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমিত্বের প্রাবল্যের কারণে তাদের এইসব ক্রিয়েটিভ স্টোরিগুলোকে আমি নিতে পারি না। যদিও অনলাইনে কোনো নারীবাদীকে ফলো করি না, তবু ফেসবুক বন্ধুদের অ্যাক্টিভিটির কারণে টাইমলাইনে তাদের ক্রিয়েটিভ স্টোরিগুলো চলে আসে মাঝেমধ্যে।

‘ক্রিয়েটিভ কুক’ হয়ে উঠা, কিংবা ‘বাচ্চাকে সুচু করিয়ে দেয়ার’ পেছনে তাহাদের যে স্ট্রাগল, কষ্ট, পরিশ্রম – এইসবের ক্রিয়েটিভ বর্ণনা পড়তে পড়তে আপনার সরল আবেগী মন হয়তো অশ্রুজলে ভেসে গঙ্গাসাগর বানিয়ে ফেলবে। অন্যদিকে, গর্ভবতী রোহিঙ্গা নারীর রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে-পুড়ে টানা কয়েকদিন হেঁটে এসে অবশেষে বাংলাদেশ সীমান্তে আটকে পড়া; কিংবা প্রাণ নিয়ে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে জঙ্গলের মধ্যেই একা একা সন্তান প্রসব করার ঘটনাও আপনার মনে হয়তো ততটা আবেগ তৈরি করতে পারবে না।

দুনিয়াটাকে তারা এতোটাই সংকীর্ণ দৃষ্টিতে দেখেন যে, এরচেয়ে সংকীর্ণ হলে তাদের দেখার পথটাই বন্ধ হয়ে যাবে। পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ বা সমাজের প্রতি প্রবল আক্রোশে ফেঁটে পড়া এইসব নারীবাদীর বড় সমস্যা নয়। এদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো প্রবল আমিত্ব। এটা নিশ্চিতভাবেই সাইকোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার।

তাই আমি এদের উপর রাগ করতে পারি না। করুণা হয় বরং। কেন যে তাদের কাছের মানুষেরা (যদি সত্যিকার অর্থে কেউ থেকে থাকে আর কি!) এই মানসিক রোগীগুলোর চিকিৎসা করায় না, সেটা ভেবে বরং সেইসব মানুষদের উপর কিছুটা রাগ হয় আমার।

ফেসবুক লিংক

Leave a Reply