জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে

জীবন-মরণের সীমানা ছাড়িয়ে যে মহাসন, তার প্রতি মানুষের দুর্নিবার আকর্ষণ। কিন্তু সেখানে পৌঁছানো ব্যক্তি মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে বিজন আকাশে বিরাজমান সেই সত্তার সাথে নিজেকে কানেক্ট করতে পারলে তো একটা পথ হয়!

জগতের অতিবর্তী সত্তার সাথে যুক্ত হওয়ার এই আকাঙ্খা মানুষের অন্তর্গত একটি প্রবণতা। নাস্তিকরাও এর ব্যতিক্রম নয়, সেক্যুলাররা তো নয়ই। আব্দুর রহমান বয়াতির একটা জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত আছে – “ছেড়ে দে নৌকা আমি যাবো মদীনায়”। সেদিন ইউটিউবে গানটা শুনতে গিয়ে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। গানটার একটা মডিফাইড লিরিক দেখলাম বেশ পপুলার। এই মডিফাইড লিরিকটা সেক্যুলার মননকে তুলনামূলকভাবে কম বিব্রত করবে। অন্যদিকে, বুভুক্ষু সেক্যুলার হৃদয়ের সহজাত আধ্যাত্মিকতার পিপাসা এভাবে হলেও মিটছে বটে।

The Power of Meaning বইয়ের লেখিকা এমিলি ইস্ফাহানী স্মিথের মতে, ধর্মীয় আচার, চিত্রকর্ম, এমনকি লেখালেখির মাধ্যমে মানুষ ট্রানসেন্ডেন্ট সত্তার সাথে কানেক্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা লাভ করে। অর্থাৎ, এই সহজাত আকাঙ্খা মানুষ কোনো না কোনোভাবে মিটিয়ে থাকে। একে অগ্রাহ্য করার শক্তি মানুষের নেই।

এই অভিজ্ঞতা লাভের জন্য ধর্মগুলো এক ধরনের সমাধান দিয়েছে। ইসলাম তার স্বকীয়তা বজায় রেখে এর পথ বাতলেছে। ইসলামের স্পিরিচুয়ালিটি দুনিয়ার সাথে তার অনুসারীদের এনগেজমেন্ট তৈরিতে বাধ্য করে। এদিক থেকে ইসলামের আধ্যাত্মিকতা অন্যান্য ধারার চেয়ে স্বতন্ত্র। এ বিষয়ে অন্য কোনো সময় আরো বলা যাবে।

যা বলছিলাম, জগতের অতিবর্তী এক সত্তার সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য রবি ঠাকুর বন্ধুত্বের দোহাই দিয়েছেন। প্রথম প্রথম গানটা যখন শুনতাম, অর্থটা ধরতে পারতাম না। কিন্তু কী এক আকর্ষণে গানটা বার বার শুনতাম। চাদের আলো নেই, জোসনা নেই, জোনাক পোকাও নেই, শুধু নক্ষত্রের ক্ষীণ আলো – এমনি এক নিঃসঙ্গ নিশুথী রাতে ঠাকুরের এই কথামালা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

Leave a Reply